

প্রতিষ্ঠানের নাম:- জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম
প্রতিষ্ঠাকাল :- ১৯৮০
প্রতিষ্ঠাতা :- মাওলানা মঞ্জুরুল হক রহ.
প্রতিষ্ঠাকালিন মুহতামিম: মাওলানা মঞ্জুরুল হক রহ.
প্রতিষ্ঠাকালিন শিক্ষা সচিব: মাওলানা সফিউল্লাহ বরিশালী
প্রতিষ্ঠাকালিন শিক্ষকবৃন্দ: মাওলানা মীর কাসেম রহ., মাওলানা আব্দুল হক রহ., মাওলানা আব্দুর রশিদ রহ. মাওলানা আব্দুল হাই রুহানী রহ, মাওলানা গিয়াসুদ্দিন রহ. প্রমুখ
বর্তমান জামাত সংখ্যা:
আবাসিক/অনাবাসিক নূরানি বিভাগ (বর্তমানে অনাবাসিক নেই)
আবাসিক হিফয বিভাগ,
আবাসিক কিতাব বিভাগ (এবতেদায়ী থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত),
আবাসিক ইফতা বিভাগ
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে চলমান সময় পর্যন্ত কৃতি শিক্ষার্থীর নাম, তাদের বর্তমান সামাজিক অবস্থান:-
মাওঃ রশীদ আহমাদ পাবনার হুজুর, ড. মুফতী গোলাম রাব্বানী, মাওলানা শরিফ মুহাম্মদ
মাওলানা লাবীব আব্দুল্লাহ, ক্বারী আবু সালেহ মুহাম্মাদ মুসা, মুফতী আব্দুল খালেক।
মাওলানা নুরুল ইসলাম রাহমানী, মাওলানা মাহমুদ জুনায়েদ, মুফতী আরশাদ, মুফতি জিয়াউর রহমান
মাদরাসাটি যে বোর্ডের অধিনে: বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যাহ
বর্তমান মুহতামিম :- মাওলানা আব্দুর রহমান হাফিজ্জি
বর্তমান মুহতামিমের মোবাইল নাম্বার:- tel:01716379481
বর্তমান শিক্ষাসচিব :- মাওলানা ফজলুর রহমান
বর্তমান শিক্ষকবৃন্দের তালিকা:- মাওলানা মুফতি গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা মুহিউদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হাই, মুফতি কিফায়তুল্লাহ, মুফতি ফজলুল হক, মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা আমীনুল হক, মুফতি সাদিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল খালেক, মাওলানা আতাউর রহমান, মুফতি আরশাদ, মাওলানা কামরুল হাসান, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল্লাহ, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা হোসাইন আহমদ, মাওলানা তাজুদ্দিন, মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ মুসা প্রমুখ।
চলমান মোট ছাত্র সংখ্যা:- ৬ শতাধিক
চলমান দাওরায়ে হাদিস ছাত্র সংখ্যা: ২০ জন
চলমান ছাত্রাবাসে অবস্থান রত ছাত্র সংখ্যা- শতভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠান
তথ্য দানকারীর নাম :- সাকিব মুস্তানসির
তথ্য দানকারীর মোবাইল: tel:01913743028
তথ্য দানকারীর ইমেইল: sakibmustansir@gmail.com
মাখজানুল উলুম মাদ্রাসা ময়মনসিংহ
মাখজানুল উলুম (জামিয়া আরাবিয়া মাখজানুল উলুম) ময়মনসিংহ জেলার তালতলা/ঢোলাদিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠিত কওমি (দ্বীনি) শিক্ষা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানের সরকারি বা স্বতন্ত্র তথ্যসূত্র অনুযায়ী এই জামিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে। প্রতিষ্ঠার প্রধান পাথেয় ও প্রতিষ্ঠাতার নামে উল্লেখ রয়েছে মাওলানা মঞ্জুরুল হক (রহ.) — তিনি জামিয়ার প্রতিষ্ঠা ও প্রারম্ভিক পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।
মাজহারটি কাওমি মাদরাসা হিসেবে ক্লাসিকাল হাদিস-ফিক্হ, আরবি সাহিত্য, তাফসীর, নাহু-সারফ (আরবি ব্যাকরণ), কিতাব-পাঠ ও অন্যান্য দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষাদান করে। সময়ে সময়ে জামিয়ার শিক্ষকরা বিভিন্ন উদ্ভাসিত উলামা-মাশায়েখ ও ওয়াযিজদের আমন্ত্রণে মহাসম্মেলন, বার্ষিক মাহফিল ও ধর্মীয় সম্মেলন আয়োজন করে থাকেন — যা ময়মনসিংহ ও সারা দেশের ধর্মীয় মহলে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ইভেন্ট হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইসলামী সম্মেলন ও বার্ষিক মাহফিলে দেশজুড়ে সুপরিচিত উলামা-শিক্ষাবিদরা বক্তব্য রাখেন।
জামিয়াটি কওমি মাদরাসা পরীক্ষায় এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বা সোশ্যাল পোস্টে পাওয়া তথ্যমতে বিভিন্ন সেশনে ঈশ্বরনীয় ফলাফল ও অনেক শিক্ষার্থী রোগীস্কৃত পদ (বৃত্তি/মেধা) অর্জন করেছে — যা প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রমের গুণমানের প্রতিফলন। (জামিয়ার প্রকাশনা/ফেসবুক পেজে কিছু ফলাফল ও অনূর্ধ্ব-সংখ্যার বিবরণ দেওয়া হয়েছে)। Facebook+1
শিক্ষা ছাড়াও জামিয়ার বার্ষিক মাহফিল, দাওয়াহ কার্যক্রম ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড ময়মনসিংহ অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক চেতনা বাড়াতেই সাহায্য করে। জেলা ও আশপাশের মানুষ প্রায়শই জামিয়ার আয়োজিত ধর্মীয় মেলায় অংশগ্রহণ করেন; এতে তরুণ-প্রজন্মের মাঝে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। স্থানীয় সংবাদ ও মিডিয়া কভারেজেও সেই সামাজিক কার্যকলাপের বার্তা ধরা পড়ে।
জামিয়ার প্রাঙ্গণ সাধারণত বড় ও উন্মুক্ত; সেখানে মাহফিল, সম্মেলন ও জনসমাগমের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। ময়দান-কেন্দ্রিক বাইরে থেকে আসা অতিথি ও বিশিষ্ট অতিথিদের বসার ব্যবস্থাও করা হয় যেন দর্শকরা সহজে অংশগ্রহণ করতে পারেন। সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও প্রতি বছর বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়।
যদিও কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য ও দ্বীনি পাঠচক্র অনস্বীকার্য, তবুও আধুনিক শিক্ষার দিক—বিশেষত বাংলা, ইংরেজি ও কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতার সংযোজন—একটি বড় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কাওমি প্রতিষ্ঠানে যেমন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরু-শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম আপডেট ও কম্পিউটার/ইনফরমেশন শিক্ষা সংযোজন নিয়ে ভাবনা চলছে, তেমনি মাখজানুল উলুমকেও এগুলো বিবেচনা করতে পারলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বহু পথ উন্মুক্ত হবে। স্থানীয় সমাজের সহযোগিতা ও সদিচ্ছাই এগুলো বাস্তবায়নে বড় ভুমিকা রাখে।
জামিয়া আরাবিয়া মাখজানুল উলুম ময়মনসিংহের একটি সুপরিচিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান — যার ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা, মাওলানা মঞ্জুরুল হকের প্রতিষ্টান আন্দোলন, বার্ষিক মাহফিল ও সম্মেলনের ঐতিহ্য, এবং কেন্দ্রিয় কওমি পরীক্ষায় সময়ে সময়ে অর্জিত সাফল্য এসবই প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়কে গড়ে তুলেছে। স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সংযুক্তি ও দ্বীনি শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যদি আধুনিক দক্ষতা ও পাঠ্য সংস্কারের সন্ধান চালানো যায়, তাহলে এই জামিয়া আগামীদিনে আরো বেশি শিক্ষার্থীর জন্য প্রসার ও সেবাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।